Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

আমাদের অর্জন সমূহ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে চাহিদার শতকরা ৮০ (আশি) ভাগের বেশি ঔষধ আমদানী করতে হত। মান সম্পন্ন ঔষধের উৎপাদন বাড়ানো এবং এ শিল্পকে সহযোগীতা ও নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর গঠন করেন। বর্তমানে দেশীয় চাহিদার শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ ঔষধ  বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়। গত এক দশকে ঔষধ শিল্প থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে এগার গুণ। বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ টি ঔষধ  উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও আমেরিকা সহ বিশে^র প্রায় ১৪৭ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত ঔষধ। বর্তমানে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের  অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ৬৫০ কোটি টাকারও বেশি।  এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশের উপরে। বর্তমানে বাংলাদেশের অ্যালোপ্যাথিক রেজিষ্টার্ড প্রোডাক্ট  এর সংখ্যা প্রায় ৩০ (ত্রিশ) হাজারেরও অধিক। ঔষধ শিল্পকে সামগ্রীকভাবে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশে পর্যাপ্ত সক্রিয় কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধে সরকার কর্তৃক  ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় একটি এপিআই পার্ক স্থাপনের ব্যবসস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত পার্কের নির্মান কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।  এপিআই পার্কটি পূর্ণরূপে চালু হলে বাংলাদেশে ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ আমরা ঔষধ শিল্পে স্বনির্ভর।


গণমানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মান সম্পন্ন ও সুলভ মূল্যে ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের একটি অন্যতম প্রধান অনুসঙ্গ।  সে কারণে বর্তমান সরকার  ঔষধ প্রশাসন ও ঔষধ সেক্টরের উন্নয়নে নানাবিধ উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে।  ফলে দেশের জনগণের নিকট সুলভমূল্যে ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে।


ঔষধের পরীক্ষা ও বিশ্লেষনের সুবিধাদি সৃষ্টির লক্ষ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আওতাধীন ঘধঃরড়হধষ ঈড়হঃৎড়ষ খধনড়ৎধঃড়ৎু  এর উৎঁম ঞবংঃরহম ডরহম এবং ঠধপপরহব ঞবংঃরহম ডরহমএর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি ইঅই এক্রিডিটেশন পায় ডিসেম্বর ২০১৭ সালে। অঘঅই এক্রিডিটেশন প্রাপ্ত হয় অক্টোবর ২০১৮ সালে এবং ডঐঙ চৎবয়ঁধষরভরপধঃরড়হ লাভ করে মার্চ ২০২০ সালে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর ল্যাবরেটরির ঔষধ এর মান নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা বর্তমানে বিশ^মানের।


বাংলাদেশের ফার্মেসী ব্যবস্থাপনাকে উন্নতকরণের লক্ষ্যে বর্তমানে মডেল ফার্মেসী/ মডেল মেডিসিন শপ এর লাইসেন্স প্রদান এবং  পুরাতন ফার্মেসীগুলোকে  মডেল ফার্মেসী/ মডেল মেডিসিন  শপে উন্নীত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩৮৫ টি মডেল ফার্মেসী  এবং ৩২৫৩৫ টি মডেল মেডিসিন শপ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।


করোনা বিরোধী যুদ্ধে বিশে^র কাছে অন্যরকম কদর পাচ্ছে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প।  বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার সংগে সংগে একের পর এক ঔষধের চাহিদা আসতে শুরু করে বাংলাদেশে। এ পর্যন্ত ৪০ টি দেশে গেছে করোনা চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত  পাঁচটি ঔষধ- (১)  রেমডেসিভির ২)  ফেভিপিরাভির ৩)  আইভার মেকটিন ও ৪)  এজিথ্রোমাইসিন ও ডেক্সামেথাসন।) করোনা কালে ঔষধ রপ্তানি হয়েছে । যা আর্থিক হিসেবে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।


বর্তমানে জেলা কার্যালয়, ঔষধ প্রশাসন, কক্সবাজার কার্যালয়ে ৩ (তিন) টি মিনি ল্যাব রয়েছে। যেখানে ১০০ (একশ) টির ও বেশী ঔষধ এর মান পরীক্ষা করা হয়। নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ন ও লাইসেন্সবিহীন ঔষধ বিক্রয় রোধে জনসচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা সহ  মোবাইল কোটর্ ,  ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে এবং ড্রাগ কোর্টে মামলা দায়ের অব্যহত রয়েছে।


ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বাংলাদেশের সকল জনগনের জন্য মান সম্মত, কার্যকরী, নিরাপদ ও সহজলভ্য ঔষধ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।